1. adminaminalamin@gmail.com : বরিশাল মুখপত্র : বরিশাল মুখপত্র
  2. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| বুধবার| রাত ২:৪০|
শিরোনামঃ
বর্তমান সরকার যুবসমাজকে কেবল চাকুরির সন্ধানে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বাবা,ফেলে রেখে চলে যায় নিরাপদ আশ্রয়স্থল না থাকায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুটির পাশে দাড়ালেন জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৪টি বিদ্যালয়কে ডিসিস এওয়ার্ড ফর ক্লিনলিন্যাস অক্টোবর /২৬ প্রদান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ইসরাত জাহান রেজোয়ানার সংবাদ সম্মেলন নাব্যতা সংকটে শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন ব্যবসায় ধস, বিপাকে শত শত পরিবার বিশ্ব ডাক দিবসে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মদনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় হিন্দুসম্প্রদায়ে মাঝে শাডী বিতরন, নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ সুনামগঞ্জ ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে বালু বোঝাই ট্রাকসহ আটক-১ সুনামগঞ্জে বিজিবি”র পৃথক দুটি অভিযানে দুইলাখ ৮৯ হাজার ৫শত টাকার ভারতীয় মাদক জব্দ

বঙ্গদেশে ভালোবাসা দিবসের আমদানী তথ্য এবং একটি চাপা পড়া ইতিহাস

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৬৭৭ বার পড়েছেন

বঙ্গদেশে ভালোবাসা দিবসের আমদানী তথ্য এবং একটি চাপা পড়া ইতিহাস                  –ইমতিয়াজ আহমেদ

আগামীকাল বঙ্গদেশে ভালোবাসা দিবস নিয়া মাতামাতি শুরু হইবে। হরেক কিসিমের দৌঁড়াদোড়ি লাফালাফি লম্ফঝম্প ছোটাছুটি বঙ্গবাসী তাহাদের জোড়া নয়ন দিয়া দেখিবে। তয় এই ভালোবাসা দিবস কাহারে কইত তাহা বঙ্গবাসী অতীত জমানায় জানিত না। তাই এই বঙ্গদেশে বসবাসকারী মানবের প্রতি মানবীর এবং মানবীর প্রতি মানবের ভালোবাসা কমতি ছিল বলিয়া কথিত ভালোবাসা বিষয়ক জ্ঞানীরা উপলব্ধি করিলেন। তাহারা নব্বইয়ের দশকে ‘মৌচাকে ঢিল’ নামীয় একটি ম্যাগাজিন বাহির করিয়া ইহার মাধ্যমে আস্তে আস্তে করিয়া ভালোবাসা বাড়াইতে ব্রতী হইল। অতঃপর ভালোবাসার বাড়াবাড়িতে বঙ্গদেশে ভালোবাসা দিবসের প্রচলন শুরু হইয়া গেল।

ফি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি আসিলে এই ম্যাগাজিনটি ভালোবাসা দিবস সংখ্যা বাহির করিতে লাগিল। ভালোবাসা দিবস সংখ্যা উপলক্ষে লেখা আহবান করিত। এই ভালোবাসা দিবস সংখ্যায় ইনিয়ে বিনিয়ে রসালো ভালোবাসার গপ্প কাহিনী প্রকাশিত হইতে লাগিল। প্রেমিক প্রেমিকারা প্রেমের হাটের হাড়ি ভাঙ্গিতে শুরু করিল। ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশিত হইলে তাহারা তাহাদের প্রেমকে সার্থক বলিয়া মনে করিত। ছ্যাঁকা খাওয়ার দু:খের কাহিনীও কেউ কেউ বেদনা বিদুর মনে প্রকাশ করিত। পাঠকগণও ‘মৌচাকে ঢিল’ এর ভালোবাসা দিবস সংখ্যা পড়িয়া উষ্ণতা অনুভব করিয়া প্রেমের রস, স্বাদ, গন্ধ আস্বাদন করিতে লাগিল। আবার ছ্যাঁকা খাওয়ার দু:খের কাহিনী পড়িয়া মনে মনে কান্দিত। দুর্বল চিত্তের কোন কোন পাঠক দুই নয়ন দিয়া পানি বাহির করিয়া দিত। এইভাবে ‘মৌচাকে ঢিল’ এর মাধ্যমে আস্তে আস্তে বঙ্গদেশে ভালোবাসা দিবসের বাষ্প ছড়াইয়া পড়িল। এখন বাষ্প কেমন ছড়াইয়াছে তাহা আমরা সকলেই অবগত।

শফিক রেহমানের পরিকল্পনায় ‘মৌচাকে ঢিল’ ম্যাগাজিন টীমের হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনির ফলে আইজ বাঙালীর মনে নতুন করিয়া ভালোবাসা পয়দা হইয়াছে। ডালে বিলে খালে আইজ ভালোবাসার জয়যাত্রা অব্যাহত রহিয়াছে। প্রেমিক প্রেমিকারা অহন যেইহানে সেইহানে ভালোবাসা দেখাইতে চাহে।

হালজামানার প্রেমিক প্রেমিকারা জানে না রসালো ভালোবাসা দিবসের আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য। অথচ তাহারা কত্ত খাটাখাটি করিয়াছে। ভালোবাসা দিবসের মাখামাখিতে যাইবার আগে আমদানীকারকদের স্বরণ না করিলে তাহারা অকৃতজ্ঞ বলিয়া গণ্য হইবে। শফিক রেহমান টীম আমদানী না করিলে কেমনে আইজ বঙ্গদেশের জমিনে ভালোবাসা দিবস পালিত হইত?

ভালোবাসা শুধু এক নারী ও এক পুরুষের দেহমনে সীমাবদ্ধের বিষয় নয়। অথচ এই দিবসে চারিদিকে এমন চিত্রই দেখিতে পাওয়া যায়। আর একদিনে কেন তাহা উতলাইয়া দিতে হইবে? ভালোবাসা থাকিবে মানুষে মানুষে, সমাজে সমাজে। ভালোবাসা থাকিবে দেশের প্রতি দশের প্রতি। এবং তাহা একদিন নহে থাকিতে হইবে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ।

এইদিকে, এই ভালোবাসা দিবসের চাপায় বঙ্গদেশের ছাত্রসমাজের একটি গৌরবময় রক্তস্নাত ইতিহাস ঢাকা পড়িয়া গিয়াছে। উর্দি মানব এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর মজিদ খান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাইয়াছিল ছাত্রসমাজ। এইটাই ছিল উর্দি মানব এরশাদবিরোধী প্রথম প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদকে স্তব্ধ করিবার জন্য ১৯৮৩ সনের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদী ছাত্রসমাজের উপর ট্রাক তুলিয়া দেওয়া হয়। নিহত হয় জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দিপালী সাহা। এই রক্ষক্ষয়ী ইতিহাসের পর হইতে বঙ্গদেশে এই দিনটি পালিত হইতো ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে। নব্বইয়ের দশকে শফিক রেহমানের পরিকল্পনায় ‘মৌচাকের ঢিল’ ম্যাগাজিন টীম কর্তৃক ব্যবসায়িক ভালোবাসা দিবস আমদানীর ফলে আস্তে আস্তে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস ভুলিয়া গিয়া তরুন ছাত্রসমাজ ডুবিয়া যায় আমদানী করা ভালোবাসা দিবসে।

তরুন ছাত্রসমাজ তাহাদের পূর্বপ্রজন্মের গৌরবোজ্জ্বল রক্তস্নাত আত্মদানের ইতিহাসকে ভুলিয়া আমদানীকৃত ভালোবাসা দিবসে মজিয়া থাকিবে কিনা তাহা ভাবিবার অবকাশ রহিয়াছে। তরুন ছাত্রসমাজ কি তাহা ভাবিবে নাকি ‘মৌচাকের ঢিল’ টীমের আমদানী করা ভালোবাসা দিবসে মজিয়া থাকিবে? এই প্রশ্নটি তাহাদের মনে উদ্রেক হউক।

লেখক পরিচিতি: সভাপতি, সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ, ময়মনসিংহ।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025 doiniksobarageamardesh.com