জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরকে ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনা’ বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস আশা করেছেন, যে ঐক্যে জুলাই সনদে সই হলো, এই সুরই দেশকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কার কমিশনগুলো গঠন করেছিল, তাদের সুপারিশমালা একসঙ্গে করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। অধ্যাপক ইউনূস নিজেই এ কমিশনের প্রধান।
নানা মতভেদ পেরিয়ে প্রণীত জুলাই সনদে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪ দল আজ সই করেছে। অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের কাতারে থাকা তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং চারটি বাম দল এই সনদে সই করেনি, তারা অনুষ্ঠানেও যায়নি। অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও সনদে সই করেনি গণফোরাম।
ভাষণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমাদের জন্য আজকে নবজন্ম। আমাদের নবজন্ম হলো আজকে। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম। সেটা যেন সঠিকভাবে আমরা যেতে পারি। আমরা একমত হয়েছি সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’
এই অগ্রযাত্রায় পথ দেখানোর ভার তরুণদের দিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘যেই তরুণেরা এই দিনটিকে সম্ভব করেছে, এ বাংলাদেশের আনাচকানাচে এই পরিবর্তনের জন্য যারা জীবন দিয়েছে তারা—এই তরুণেরাই আবার বাংলাদেশকে নতুন করে গড়বে। এই চিন্তাধারার আলোকে তারা এই দেশকে গড়বে। তারা এই দেশের নেতৃত্ব দেবে। তারা আমাদের পথ দেখাবে।’
ভাষণের আগে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেন মুহাম্মদ ইউনূস। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরাও সই করেন সনদে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টা
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যাত্রার শুরুটা ‘ভয়ে ভয়ে’ হয়েছিল মন্তব্য করে এই কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘সমস্ত জাতি একসঙ্গে হয়ে, সমস্ত রাজনৈতিক নেতা একসঙ্গে হয়ে তাঁরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করছেন। এ রকম ঘটনা ঘটবে, এ রকম কেউ আমরা চিন্তাও করতে পারিনি। যখন ঐকমত্য কমিশন গঠন করলাম, মনে মনে আশা ছিল যে হয়তো দুই–একটা বিষয়ে তাদের এক করতে পারব।’
নানা বিষয়ে মতানৈক্য পেরিয়ে জুলাই সনদে দলগুলোকে এক করতে পারার কৃতিত্ব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবেন। তাঁদের নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে। লোকে চিন্তা করবে যে তাঁরা কীভাবে এটা করেছিলেন!
জুলাই সনদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এখানে স্বাক্ষর করলাম সবাই মিলে, সেটা দিয়ে বাংলাদেশ পরিবর্তন হবে। এই পরিবর্তন সম্ভব হলো ওই গণ-অভ্যুত্থানের কারণে। এটা হলো দ্বিতীয় অংশ। সেটা তারা করেছিল বলেই আজকে আমরা এই সুযোগ পেলাম। আমরা পুরোনো কথাবার্তা সব ফেলে নতুন কথাগুলো আমাদের জীবনে নিয়ে আসলাম। আমাদের জাতীয় জীবনে নিয়ে আসলাম। আমাদের সংবিধানের পরিবর্তনের মধ্যে নিয়ে আসলাম। আমাদের অন্যান্য বিষয়ে সরকার চালানোর বিষয়ে নিয়ে আসলাম। অনেক বিষয় এসেছে পরিবর্তনের ভেতরে। এই পরিবর্তন এখন আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা সেই পথে অগ্রসর হব।’
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা এরই মধ্যে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এখন রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সেদিকে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি