রায়েরবাগের এভারগ্রীন হাসপাতালে এ কর্মরত বলে পরিচিত ডাক্তার সায়েমের বিরুদ্ধে অবৈধ এমআর করানো, রোগী ভাগিয়ে আনা এবং বাচ্চা চুরি সিন্ডিকেট পরিচালনার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা শারমিনের গোপনে এমআর করানোর পর তার অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোগী ভাগিয়ে এনে বাসায় অবৈধ এমআর
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাতুয়াল এলাকার মাতুয়াল মেডিকেল থেকে রিনা, সেলিনা ও বাচ্চু নামে তিনজন দালালের মাধ্যমে সারমিনকে ভাগিয়ে আনা হয়। পরে ডাক্তার সায়েমের নির্দেশে রিনার বাসায় নিয়ে গোপন এমআর করানো হয়।
ঘটনার ফলে শারমিন তার চার মাসের সন্তানের জীবন হারান।
সায়েম কি আসলেই ডাক্তার?
নিজেকে ডাক্তার দাবি করলেও তার বৈধ ডিগ্রি নিবন্ধন ও পরিচয় নিয়ে এলাকাজুড়ে উঠেছে তীব্র প্রশ্ন। অভিযোগকারীরা বলছেন, এটি সাধারণ কোনো চক্র নয়—এটি একটি লাভজনক অবৈধ চিকিৎসা সিন্ডিকেট।
রিনার স্বীকারোক্তি
ঘটনার পর রিনাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন—
আমি এভারগ্রিন হাসপাতালে মাসিক ১৫০০০ টাকা বেতনে চাকরি করি। আমাদের পুরো কাজের নেতৃত্ব দেন ডাক্তার সায়েম।
রিনার মোবাইলের whatsapp চ্যাট ঘেঁটে দেখা যায়—চক্রটি বহুদিন ধরে রোগী ভাগিয়ে আনা ও অবৈধ চিকিৎসা ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
বাচ্চা চুরি করে বিক্রির অভিযোগ
তদন্তে জানা গেছে,মাতুয়াল মা ও শিশু হাসপাতালের এর এনআইসিইউ থেকে নবজাতক চুরি করে বিভিন্ন হাসপাতালে বিক্রির সাথেও যুক্ত থাকতে পারে একই সিন্ডিকেট।
স্থানীয়দের দাবি—এটি শুধু এমআর নয় এটি একটি ভয়ংকর বাচ্চা চুরি চক্র।
দায় নেবে কে?
শারমিনের সন্তানের মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
চার মাসের অনাগত সন্তানের মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে?
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই অবনতি, ভুয়া ডাক্তারদের বাড়বাড়ন্ত বন্ধ করবে কে?
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নজরদারি এত দুর্বল কেন?
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গণমাধ্যমের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।