সৈয়দা রাশিদা বারী
মুখ বাজি করা প্রতিশোধ নেওয়া সোর হট্ট গোল এটা কোন বড় কাজ ভালো বিষয় নয়। বড় কাজ ভালো বিষয় হলো সার্বিক পর্যায়ের মানুষের জন্য মঙ্গলময় কল্যাণকর আর দেশের উন্নয়নমুখী আলোকিত মানুষ হয়ে আলোকিত কাজ করা। এর জন্য ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগ ব্যক্তি লোভ লালসা বিসর্জন দেওয়ার ঊর্ধ্বে কিছু নাই। এমন হলে যেই জনগণের পক্ষে দেশের হাল যখন ধরুক কোন সমস্যা বা আপত্তি নাই জনসাধারণের। দেশ পরিচালকদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ক্ষমতাচ্যুত হলেও মানুষ যেন বিপক্ষে কথা বলতে না পারে। বিপর্যয় না আসে। বিগত আমলের মত এটা জনগণ আর চাই না। বরং মানুষ সব মানুষের ভালো থাকাটাই চায়। মানুষ ক্ষণস্থায়ী কিন্তু মানুষের কর্ম চিরস্থায়ী। দুর্নীতি এবং বৈষম্য এই আপডেট যুগে, এখন আর কেউ কারো মধ্যে দেখতে চায়না। যেহেতু
একদিন হয়ে যাবে সবই অতীত, বাংলা ভাষা বাংলাদেশ ছাড়া। আর অতীত তো অতীত তবুও অতীত কথা বলে, ভালো এবং মন্দ ইন্ডিকেট করে।
যেমন এসেছিল পলাশীর প্রান্তর। ঘাতক রবার্ট ক্লাইভের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিজয়।
বাংলার শেষ নবাব, নবাব সিরাজুউদ্দৌলার দুঃসময় তথা পতন! নির্মম ২৩,৬,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ। চরম হত্যার মুহূর্ত
২.৭.১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দও জল জল করে জলে, জ্বলবে, ইতিহাসে অখুন্ন থাকবে। কোদাল মারলেও মুছে যাবে না পাষণ্ড এই তারিখ! মীরজাফর ও মীর জাফরের ছেলে মিরর, ঘষেটি বেগম প্রজন্মের পর প্রজন্মদের কাছে কেউ ছাড় পাবে না। আবার একাহিনী হাজার ঢাকলেও ঢাকবে না। নবাব সিরাজের সম্মানও ক্ষুন্ন হবে না। এটাই ইতিহাস। আগমন ঘটে, প্রস্থান করে না।
প্রায় দুইশত বছরের বর্গী এলো দেশে, ধান ফুরালো পান ফুরালো খাজনা দেবো কিসে।
এটাও ভাসবে, ভাসতেই থাকবে। এভাবেই
একদিন হয় হয়ে যাই সবই অতিত।
এসেছিল তিতুমীর ক্ষুদিরাম বাঘা যতীন সোনা বিবি প্যারী সুন্দরী মহারানী ভিক্টোরিয়া গিরি বালা সৈয়দ ওয়াহেদ আলী মিয়া প্রমুখ। প্রায় দুইশত বছর কত শত মানুষের পস্তানোর পরও পূর্ব পুরুষের ভুলের মাশুল প্রজন্মদের গুনে দিতে হয়েছে।
এসেছিল ৪৭, ৫২, ৬৬ এসেছিল ৭১, এসেছিল ২৪, এসেছিল এবং আসবে আরো কতকি ইত্যাদি। এমনই তো হয়েছে এবং হবে শুধু থাকবে আমাদের বাংলাদেশীদের জন্য বাংলা ভাষা বাংলাদেশ!
যুগের আবর্তে প্রতিফলন ঘটা, ঘটনার বাইরে প্রঘটনা ঘটা… প্রভৃতি বিলুপ্ত হলেও কিছু পদার্পণের প্রস্থান হয় না। কারণ ইতিহাস প্রস্তান করা শেখে নাই। থাকবে অটুট, দিনে দিনে আরও জব্দ আকার ধারণ করে। ঘষামাজা করলে আরো বৃহৎ আকার ধারণ করবে।
এভাবেই আসবে ফিরে ফিরে বাঁধবে। ডাকবে রাখবে থাকবে। পূরণের সাথে নতুনের মালা গাথা, আনন্দ ঘণ মুহূর্ত আনন্দময় করে। দেশের মাটিতে যারাই আসবে কাজ করবে, কেউ হারাবে না। কিচ্ছু হারাবে না। আর পজিশনও যার যার তার তার। কারো পজিশন কারো হবে না। কেউ পারবে না কেড়ে নিতে। বিকৃত করে দিতে। চর্যাপদের মতো বেনারসি বাঁধনে থেকে যাবে শতাব্দী ছাড়িয়ে শতাব্দী এবং চর্চা হবে। অথচ
আমি হারিয়ে যাব, তুমি হারিয়ে যাবে, এটা ফুরিয়ে যাবে, ওটা ফুরিয়ে যাবে, সেটা নষ্ট হবে, অন্যটার রং বদলাবে ধ্বংস হবে ইত্যাদি। কিন্তু দৃষ্টি নন্দিত করে সৃষ্টি যেটা হয়, বৃষ্টির টাপুর টুপুর মিষ্টি মধুর করে, তেমনি সেটার কিছুই হারিয়ে যায় না। নিশির শিশির বিন্দু ফুরায় না। শীত মৌসুমের সাথেই নিশি ভোরের বসবাস। যা ছয় মাস বা বছর অন্তর অন্তর আসে। কিছুই স্রষ্টার জগতের নষ্ট হয় না লোকালয়ে নষ্ট হলেও, হারিয়ে গেলেও, লোকারণ্যে থেকে যায়। চোখে চোখে ফুরিয়ে গেলেও হৃদয়ে হৃদয়ে থেকে যায়। সৃষ্টিকৃত কোন কিছুই ধ্বংস করে দিলেও ধ্বংস হয় না। মহান আল্লাহর কাছে ডকুমেন্টালি খাতা আছে লিস্ট আছে। সেই তালিকা দুই কাধের দুই শৈন্য কথিত বর্ণনা ফেরেশতাদয় বহন করেন।
মানব জীবনের সময়ের অংশসহ কিছু কিছু বিষয় কর্মযজ্ঞ থাকে যেটার কোন ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে না।
কোন অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ বলে থাকে না।
রূপান্তরিতও হয় না।
ভাগ হয়না তুলনা হয় না বিচ্ছিন্ন হয় না ইত্যাদি।
যেমন মা-বাবার ভালোবাসা।
একই মায়ের পেটে জন্ম নেওয়া ভাইবোনের সম্পর্ক।
যেমন প্রীতিভাজন বাংলা ভাষা এবং প্রেমময় বাংলাদেশ। প্রেমিক-প্রেমিকার বাঁধন, মানব দানবের মাঝে হবে কেন? বালাই সাট। বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশ এটারই তো স্বরূপ! চেনা এবং জানা বুঝতে হবে শিখতে হবে। এরাই তো আসল গৌরবান্বিত প্রেমিক প্রেমিকা! কেউ কখনোই বিচ্ছিন্ন করতে পারে নাই!
দিন যাবে মাস যাবে বছর যাবে, যুগ কাল শতাব্দী পেরিয়ে শতাব্দী যাবে।
আসবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নতুন নতুন। ধরবে হাল কামাবে মাল বাংলাদেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
এটাই রীতি বিধির নীতি। দেহ মন জোড়া স্মৃতি। কল্যাণীয়া প্রীতি।
থাকবে এবং থেকেই যাবে অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ জুড়ছ, বিভোর করে, শত শত সূর্য নিশান মুখ। রাজনৈতিক মুখ, শিক্ষা সাংস্কৃতিক মুখ, কলহ বিবাদ করা মুখ! আধ্যাত্মিক মুখ। অর্থাৎ শুভ্র মুখ এবং কলঙ্কিত মুখ! আবার সবখানেই আছে দুই মুখো সাপের বিষ এবং মুখও! কত রকম মুখ। জীবনের অলিগলি লিপিবদ্ধতা ছুঁয়ে। গবেষণার আলিঙ্গন। ত্রিমুখী মূল্যায়ন চতুর্মুখী কদর বিহঙ্গন! কখনোই বলছি না বলবো না উলঙ্গ সমাজ! ঘুণে ধরা ফাটল ধরা সমাজ! তাতে যে সোনার চেয়েও দামী এই দেশের মানের হানি ঘটবে। এখানেও দূর পাল্লা আঙ্গিকে সুদূর ভবিষ্যৎ আসবে আর আসবে আসতেই থাকবে! হাসতেও থাকবে! পাখির কিচির মিচির। গুঞ্জরিয়ে ওঠা মহুয়ার বন। সাতার জলে মাছের খেলা। লক্ষ্মী প্যাঁচার গোলাঘর পাহারা। বিড়ালের ইঁদুর ধরা নেশা। এসব প্রকৃতির আহ্বান। এই বিশাল আকর্ষণ কি যে অপূর্ব মন মুগ্ধকর।
মানুষ বদলিয়েছে দিন পাল্টিয়েছে! দিন পাল্টাবে মানুষ বদলাবে কিন্তু আমার তোমার ভালোবাসার বাংলা ভাষা এবং আমার তোমার ভালোলাগার বাংলাদেশ সুমহান থেকেই যাবে অজানা এক প্রকৃতির টানে।
আমি থাকবো না, তুমি থাকবে না, সে থাকবে না, তারা থাকবে না, কেউ থাকবে না।
সংস্কারের নামে যাই হবে। সেটারও চেঞ্জ হবে কালে কালে, যুগে যুগে কিন্তু রূপসী বাংলার রূপের রানীর কোন ক্ষয় নাই!
বাঙালিয়ানি সুমিষ্টি বিলাসী সুন্দর নয়নাভিলাভ দৃষ্টি অক্ষুন্ন রবে এবং অক্ষয় অম্লান থাকবে। থেকেই যাবে।
হ্যাঁ হ্যাঁ প্রাকৃতিক ভাবেই প্রকৃতির টানে বাংলা ভাষা বাংলাদেশ স্থায়িত্ব থেকেই যাবে।