1. adminaminalamin@gmail.com : বরিশাল মুখপত্র : বরিশাল মুখপত্র
  2. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| বুধবার| রাত ২:৩৮|
শিরোনামঃ
বর্তমান সরকার যুবসমাজকে কেবল চাকুরির সন্ধানে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বাবা,ফেলে রেখে চলে যায় নিরাপদ আশ্রয়স্থল না থাকায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুটির পাশে দাড়ালেন জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৪টি বিদ্যালয়কে ডিসিস এওয়ার্ড ফর ক্লিনলিন্যাস অক্টোবর /২৬ প্রদান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ইসরাত জাহান রেজোয়ানার সংবাদ সম্মেলন নাব্যতা সংকটে শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন ব্যবসায় ধস, বিপাকে শত শত পরিবার বিশ্ব ডাক দিবসে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মদনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় হিন্দুসম্প্রদায়ে মাঝে শাডী বিতরন, নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ সুনামগঞ্জ ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে বালু বোঝাই ট্রাকসহ আটক-১ সুনামগঞ্জে বিজিবি”র পৃথক দুটি অভিযানে দুইলাখ ৮৯ হাজার ৫শত টাকার ভারতীয় মাদক জব্দ

নাব্যতা সংকটে শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন ব্যবসায় ধস, বিপাকে শত শত পরিবার

লৌহজং উপজেলা প্রতিনিধি: মোঃ কাওসার শেখ
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫১ বার পড়েছেন

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিমুলিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দা দেখা দিয়েছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় ঘাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঘাটসংলগ্ন এলাকায় চর জেগে ওঠার ফলে ঘাট ও চরের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে সরু ও পানিশূন্য একটি খাল। এতে পর্যটকবাহী ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভোগান্তির কারণে শিমুলিয়াঘাটে পর্যটকদের আগমনও কমে গেছে।

ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রলার, বাড়ছে পর্যটকদের ভোগান্তি

সরেজমিনে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বড় একটি চর জেগে ওঠায় সরু একটি চ্যানেল দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার চলাচল করছে। ঘাট ও চরের মাঝখানে সৃষ্টি হওয়া খালে পানির পরিমাণও খুব কম। ফলে সামান্য পানির ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারগুলো ঘাটে ভিড়ছে।

চ্যানেলটি এতটাই সরু যে, মুখোমুখি দুটি ট্রলার একসঙ্গে চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে, যাত্রীদের ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ট্রলার থেকে নামার সময় পর্যটক ও যাত্রীদের কাদামাটিতে নামতে হচ্ছে। এতে অনেকেই পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফলে পর্যটকনির্ভর এ ঘাটের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চর কাটার দাবি স্থানীয়দের

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিমুলিয়া ঘাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে ঘাটসংলগ্ন জেগে ওঠা চর কেটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। চরটি অপসারণ করে নৌযান চলাচলের উপযোগী চ্যানেল তৈরি করা গেলে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক হবে। এতে পর্যটকদের আগমন বাড়বে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রাণ ফিরে আসবে।

শত শত মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে

শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার কাওসার শেখ জানান, এ ঘাটকে কেন্দ্র করে ট্রলারমালিক, চালক ও শ্রমিকসহ প্রায় ৯০০ জনেরও বেশি মানুষের জীবিকা জড়িত। ঘাটসংলগ্ন প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ ও ২০ ফুট প্রশস্ত চরটি কেটে নৌযান চলাচলের উপযোগী চ্যানেল তৈরি করা না হলে এসব মানুষ চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন।

তিনি আরও বলেন, ঘাটসংলগ্ন চরে কাশবন গড়ে ওঠায় সেখানে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত বছর সেখানে দুটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহও পাওয়া গিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কাওসার শেখ বলেন, শিমুলিয়া তাঁর জন্মস্থান। এ এলাকার কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনা ঘটলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তাই পর্যটন ব্যবসা রক্ষা করার পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কোটি টাকার ইজারা, তবু ব্যবসায় লোকসান

অপর ইজারাদার হামিদুর রহমান জানান, শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকবাহী ট্রলার ঘাট, দেশীয় নৌকা ও ট্রলার ঘাট, স্পিডবোট ঘাট এবং মাছের আড়ত ঘাটসহ চারটি ঘাট রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জাহাজ, নৌ পুলিশের স্পিডবোট ও ট্রলারও এ এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তিনি বলেন, ঘাটগুলো ইজারা নিতে তাঁদের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। কিন্তু চর জেগে ওঠায় ঘাটের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যটকেরা মূলত ট্রলারে চড়ে পদ্মা নদী ও পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসেন। নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটকদের আগমন কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তাঁদের ব্যবসায়।

হামিদুর রহমানের দাবি, দ্রুত চর অপসারণ করে ঘাটের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না হলে পর্যটননির্ভর শিমুলিয়া ঘাটের অবশিষ্ট ঐতিহ্য ও জৌলুশও হারিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি চর এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএর

শিমুলিয়া নদীবন্দরের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ খান জানান, ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে চর জেগে ওঠায় ঘাট ও চরের মাঝখানে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। নদী থেকে ওই খালে পর্যটকবাহী ট্রলার চলাচল করতে পারছে না। এতে পর্যটকেরা বিরক্ত হচ্ছেন এবং ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দ্রুত চরটি কেটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এ কাজ বাস্তবায়নে স্থানীয় সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসী সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পর্যটন ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা

শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন ব্যবসা, নৌযান চলাচল এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা রক্ষায় দ্রুত চর অপসারণ ও নৌপথ সচল করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী, ইজারাদার ও স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকদের আগমন বাড়বে এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও গতি ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025 doiniksobarageamardesh.com