1. adminaminalamin@gmail.com : বরিশাল মুখপত্র : বরিশাল মুখপত্র
  2. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| বুধবার| রাত ১:৫৪|
শিরোনামঃ
বর্তমান সরকার যুবসমাজকে কেবল চাকুরির সন্ধানে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বাবা,ফেলে রেখে চলে যায় নিরাপদ আশ্রয়স্থল না থাকায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুটির পাশে দাড়ালেন জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৪টি বিদ্যালয়কে ডিসিস এওয়ার্ড ফর ক্লিনলিন্যাস অক্টোবর /২৬ প্রদান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ইসরাত জাহান রেজোয়ানার সংবাদ সম্মেলন নাব্যতা সংকটে শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন ব্যবসায় ধস, বিপাকে শত শত পরিবার বিশ্ব ডাক দিবসে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মদনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় হিন্দুসম্প্রদায়ে মাঝে শাডী বিতরন, নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ সুনামগঞ্জ ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে বালু বোঝাই ট্রাকসহ আটক-১ সুনামগঞ্জে বিজিবি”র পৃথক দুটি অভিযানে দুইলাখ ৮৯ হাজার ৫শত টাকার ভারতীয় মাদক জব্দ

মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুমৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০২ বার পড়েছেন

চিকিৎসায় অবহেলা ও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে চার বছর বয়সী শিশু আভানের মৃত্যু নিয়ে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, রোগ নির্ণয়ে ভুল সিদ্ধান্ত এবং অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শিশু আভানের বাবা মৃদুল ইসলাম একজন গণমাধ্যমকর্মী। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে আভানকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা প্রথম দিকে ডেঙ্গুর আশঙ্কা করে চিকিৎসা শুরু করেন। পরিবারের দাবি, পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হলেও প্রতিবারই ফলাফল নেগেটিভ আসে। এরপরও শিশুটিকে ডেঙ্গু-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আইসিইউতে নেওয়ার পর অবনতি

পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২ অক্টোবর আভানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি উপস্থিত না থেকে ফোনে নির্দেশনা দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

পরিবারের দাবি, আইসিইউতে নেওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে পরিবারকে জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে আভানের মৃত্যু হয়।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আভানকে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, এর পর শিশুটির শরীরে গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে ‘শক সিনড্রোম’-এর মতো জটিলতা তৈরি হয়।

তবে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যথাযথ ছিল কি না, শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল কি না—তা চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা ও বিশেষজ্ঞ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

চিকিৎসা নথি নিয়েও পরিবারের প্রশ্ন

স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও কেস সামারি চাওয়া হলেও শুরুতে তা পেতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে চাপের মুখে কিছু প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।

পরিবারের ভাষ্য, সরবরাহ করা চিকিৎসা নথিতে রক্তে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন এবং শক সিনড্রোমের উল্লেখ রয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে কোনো গাফিলতি, ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল কি না—তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে।

‘জাস্টিস ফর আভান’ কর্মসূচির ঘোষণা

ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের পক্ষে ‘জাস্টিস ফর আভান’ স্লোগানে দায়ীদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা, চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা হয়ে থাকলে দায়ীদের শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালের লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পেশাগত অনুমোদন বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

নিরপেক্ষ তদন্তই এখন মূল দাবি

শিশু আভানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, চিকিৎসার কোন পর্যায়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা ও প্রয়োগ যথাযথ ছিল কি না, আইসিইউতে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের ধরন কেমন ছিল এবং হাসপাতালের চিকিৎসা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞ মতামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আভানের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কারও দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025 doiniksobarageamardesh.com