1. adminaminalamin@gmail.com : বরিশাল মুখপত্র : বরিশাল মুখপত্র
  2. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| শনিবার| সন্ধ্যা ৬:৪৪|
শিরোনামঃ
এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি মাসোয়ারার টাকা নিরবে পেতে ভিন্ন কৌশল করে দুপুরের খাবারের ব‍্যবস্থা করে দিলেন আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা পিআইবির ডিজি ফারুক ওয়াসিফের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন সাংবাদিক সম্মেলন কালির বাজার জামিয়া কাসেমিয়া দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা পরিদর্শনে ইউএনও ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের সভাপতির মায়ের অস্ত্রোপচার রোববার: সুস্থতা কামনায় সর্বস্তরের দোয়া প্রার্থনা গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য! স্বৈরাচারের দোসরদের সিন্ডিকেট রাজত্ব,শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়,ক্ষমতার দাপট,অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের ঢাকার নবাবগঞ্জে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার – ১

এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত সময় শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়েছেন

কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিযোগ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াতের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি যেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের হওয়া এক অভিযোগ এবং বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ তথ্য সেই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৫—মাত্র তিন বছরে শুধু এই ডিপোতেই ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকারও বেশি অপচয়, ক্ষতি ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া বিল, জ্বালানি ও ফেরি খরচ ফাঁকি, অগ্রিম ভাতা, টিএ/ডিএ আত্মসাৎ এবং হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেভাবে গিলে খাওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটির গভীরে প্রোথিত সিন্ডিকেটের চিত্রই তুলে ধরে।

দুদকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর রাজস্ব আদায়, জ্বালানি, বায়ু, জমা-রাজস্ব খাতে এবং নির্ধারিত ব্যয় নির্বাহের নামে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগকারী বিআরটিসির কেন্দ্রীয় স্টোর অফিসার মো. মোস্তাকিজুর রহমানের দাবি, জ্বালানি, গ্যারেজ, টুলস ও ফেরিসহ বিভিন্ন খাতে এবং প্রথম মাইলেজ ভাতা, দৈনিক ভাতা ও বিবিধ ব্যয়ের নামে ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করে প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার অপচয়, ক্ষতি ও চুরি ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে এই সময়কালের ৪৩০ পাতারও বেশি তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে চিহ্নিত প্রধান ব্যক্তিদের মধ্যে অভিযুক্ত মো. কামরুজ্জামান, যিনি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে একই ডিপোতে ছিলেন এবং এখনও সেখানে কর্মরত। অভিযোগে আরও নাম উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার মো. আ. করিম এবং হিসাব কর্মকর্তা মো. রমজান হোসেনের। এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও দুদকের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

বিআরটিসির অভ্যন্তরে এই কর্মকর্তাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ উঠে আসছিল।

একইভাবে মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, তার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায় হওয়ায় তিনি সাবেক এমপি শেখ সেলিমের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সেই ছত্রছায়ায় বড় বড় ডিপোতে পোস্টিং পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তাকে খুলনা বাস ডিপোর দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের একাংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিপো ও ইউনিটে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।

এসব অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত না হলেও, বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ তথ্য ও দুদকে জমা দেওয়া নথিপত্রে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর আর্থিক অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট। জ্বালানি তেল ও ফেরি বিল, গ্যারেজ শ্রমিকের মজুরি, মাইলেজ বিল, দৈনিক ভাতা এবং টিএ/ডিএর নামে ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ডিপোর রাজস্ব আদায়েও ঘাটতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা তিনিই এই সিন্ডিকেটের বতর্মান প্রধান বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছন। “বিআরটিসিতে ফ্যাসিস্ট চেয়ারম্যান থাকলেই এরকম একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট টিকে থাকা সম্ভাব। বিগত দিনের দুর্নীতির একটি ভাগ বতর্মান চেয়ারম্যান কে দিতে হয়েছে। সকল অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।তাই তার কর্মকর্তারাও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে । বতর্মান সরকারের উচিৎ শিগগির তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

চেয়ারম্যান নিজেই এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে লুটপাটের স্বীকৃতি দিয়েছেন অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য ।

আওয়ামী লীগ চলে গেলেও এই প্রতিষ্ঠানটিতে চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের এক নেতার জামাতা। তাই এই সিন্ডিকেট যে ক্ষমতার পালাবদলের পরও টিকে আছে, এমন চেয়ারম্যান পাওয়াতেই তা স্পষ্ট। অনেক ডিপোতে এখনও সেই সময়ের অবৈধ লিজ ও অবৈধ কাউন্টার এবং তাহার ব্যবস্থাপনা বহাল রয়েছে।

এদিকে একটি সুত্র জানায়, ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা মাসিক মাসোয়ারা হিসেবে
ম‍্যানেজারদের কাছ থেকে
নেন! আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা। ম‍্যানেজারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই ডিপোর ম‍্যানেজারের চেয়ার কেড়ে নেয়ার ভয় দেখানো শুরু করেন। ভয়ে মাসিক মাসোয়ারার টাকা দিতে বাধ্য হয় ম‍্যানেজাররা।বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার দাবি এই টাকা তিনি একানেন না বিএনপির এমপি, মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয় তার এই চেয়ার টিকানোর জন্য। একথা গুলো ম‍্যানেজারদের সাথে সরাসরি বলে থাকেন চেয়ারম্যান। নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে এক ম‍্যানেজার বলেন চেয়ারম্যান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিবারের লোক তাই সকল সুবিধা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোক জনকেই দিয়ে থাকেন। মুখে বিএনপি অন্তরে আওয়ামী লীগ।তিনি তো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার জামাতা।বিএনপির এমপি,মন্ত্রীর কথা বলে টাকা নেন কিন্তু সেই টাকা নিজেই ভোগ করেন। তাদের নাম শুধু বলে তারা কেহ কোন কিছু নেন না।

সুত্রের আরও দাবি,মাসিক মাসোয়ারার পরেও ভিন্ন ভিন্ন খাদে অর্থ বরাদ্দ করে সেই অর্থই হাতিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।

গত বছর আন্তর্জাতিক বানিজ‍্য মেলায় অপারেটিং ব‍্যায় খরচ নির্বাহের জন্য ধরা হয় ১৫ লক্ষ টাকা। বর্তমান চেয়ারম্যান সেখানে (আন্তর্জাতিক বানিজ‍্য মেলায় অপারেটিং ব‍্যায় খরচ নির্বাহের জন্য ৫৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন।)অথচ ৬ লক্ষ টাকাও খরচ হবে না।

চেয়ারম্যানের রুমের ডেকারেশনের বরাদ্দ ৫৬ লক্ষ টাকা। ভাউচার দিয়ে চেয়ারম্যানের পকেটে ৪০ লক্ষ টাকা।

সাবেক চেয়ারম্যান যে রুমে অফিস করেছেন সেই রুমের ডেকোরেশন এর জন্য ৫৬ লক্ষ টাকা বাজেট করেছেন অথচ সেই রুমেই বসেই বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। মাসিক মাসোয়ারা বাদে ও বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন খাদে অর্থ বরাদ্দ করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান!

বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর এই অভিযোগ কেবল কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের চিত্র নয়। এটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, হিসাব জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক লুটপাটের একটি বড় চিত্র।

দুদকে দায়ের করা অভিযোগ এবং টিআইবিসহ বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা মিলে একই সত্যকেই তুলে ধরছে বিআরটিসিকে গিলে খাওয়া সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয়। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতের দুর্নীতি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা ও মেধাকে উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক বসানো গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শামিল। এ ধরনের সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়োগ কেবল প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই ভেঙে দেয় না, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার ওপর জনগণের আস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে,পরিবহন খাতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সিন্ডিকেটই অনিয়ম-দুর্নীতির মূল কারণ।প্রাইভেট বাস খাতে বছরে অন্তত এক হাজার কোটি টাকারও বেশি চাঁদা ও ঘুষ আদায় হয়, যার বড় অংশ রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে যায়। বিআরটিএ ইতোমধ্যে দুর্নীতির তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিআরটিসির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় একই ধরনের রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও হিসাব জালিয়াতি চললে জনগণের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতিবিদ ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিআরটিসির মতো প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব নয়। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “যখন কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে লাভজনক পদে বহাল থাকেন এবং হিসাবের জালিয়াতি চলে, তখন তা ব্যক্তিগত দুর্নীতির পর্যায় পেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংকট তৈরি করে। দুদক ও বিভাগীয় তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” আরেকজন বিশ্লেষকের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পরও পুরনো সিন্ডিকেট যদি বহাল থাকে, তাহলে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কামরুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2025 doiniksobarageamardesh.com