প্রেমিক পুরুষ সর্ব নিকৃষ্ট
বাবা পুরুষ সর্ব উৎকৃষ্
– সৈয়দা রাশিদা বারী
প্রেমিক পুরুষ সর্ব নিকৃষ্ট বাবা পুরুষ সর্ব উৎকৃষ্ট কারণটা লক্ষ্য করুন: সমাজের অনেক সমস্যায় আছে বলা যায় না কিন্তু বলা প্রয়োজন। না বললে আর মুখের মধ্যে রাখলে, সেটার সমাধান হবে কি করে? সেটার উপসম আসবে কি করে? এই কারণেই সমস্যাগুলোকে তুলে ধরা এবং ডিসকাশন করা জরুরী প্রয়োজন। আলোচনা সাপেক্ষ সমালোচনা চিন্তাভাবনা এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। মন্তব্য করাটা ভালো কাজ নয় যদি মন্তব্যটা ভুল হয়। কিন্তু দিস্কাসন করা ভালো কাজ। আসুন আমরা এই মুহূর্তে পুরুষ সম্বন্ধে বলি। একটু ডিসকাশন করি। পুরুষ কি? পুরুষ কত প্রকার? প্রকার গুলো কি কি? মূলত এর কোন সীমারেখা নাই। আমার আবার ব্যাপক পরিষরে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করার সময়ও নাই। এনার্জিও নাই তাই আপাতত সচরাচর যেটা স্বাভাবিক ঘটে থাকে আর নারীরা সমস্যায় পড়ে, পুরুষরা সমস্যায় পড়ে না, সেটা আলোচনা করতে পারি। ঠিক আছে তাই আজ পুরুষকে নিয়েই বলি। পুরুষ কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। ঘরে থাকা আর না থাকা এটা আকাশ-পাতাল পার্থক্যের। একজন পুরুষ যে কত প্রয়োজন ঘরে থাকা সেটা বলার অবকাশ নেই। পুরুষ যখন পুত্র তখন সে সবচেয়ে ভালো। পুরুষ যখন বাবা তখন সে আরো ভালো। পুরুষ একজন যখন দাদা নানা চাচা মামা ফুপা খালু সবই মধুময়। পুরুষ যখন প্রতিবেশী সেটাও অনেক গর্বের এবং ভালো। পুরুষ যখন আত্মীয় তখনো অনেক শান্তির। পুরুষ যখন ছাত্র তখন যেন সে সন্তান। পুরুষ যখন শিক্ষক তখনো অনেক গর্বের। আবার পুরুষ যখন ভালো বন্ধু ভালো সহযোগী ভালো মানুষ তখনো অনেক বড় গর্বনীয় হয়। এইভাবে সব সম্পর্কের পুরুষ সত্যিই ভালো সত্যিই গর্বের সত্যিই আনন্দের এবং শান্তির ধন। মহান আল্লাহ পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন শান্তির জন্যই। কিন্তু কখনো সখনো ইবলিশ শয়তানের ভর পুরুষকে অমানুষ করে দেয়! ইবলিশ শয়তানের আক্রমনে অপকর্মের ফলে শান্তিটা হয়ে পড়ে অশান্তির কারণ! আল্লাহর প্রতি তাই ভালো পুরুষের জন্য কৃতজ্ঞ। খারাপ পুরুষের জন্য দুঃখিত। খারাপ পুরুষ বলতে এই পুরুষ যখন আবার ভয়ংকর। বলুন তখন কি? তখন আর অহংকারের গর্বের ধন পুরুষ থাকে না। আনন্দের থাকে না। সুখের হয় না। একজন মায়ের পেটের ভাই একজন নিজের পেটের পুত্র সত্যিই কি যে শান্তির। আর কি যে আনন্দের! যা বলার কোন ভাষা নেই!! এই সম্পর্কের গুলো আসলেই ভালোলাগার। কিন্তু যখন প্রেমিক সম্পর্কে তখনই মরণ ব্যাধি চরিত্রহীনতায় পুরুষকে ছেয়ে নেয়! তখন সেই পুরুষের প্রতিচ্ছবি ঘৃণার প্রকাশ আর ভাষায় ব্যক্ত করার নয়! এখানেই যা সমস্যা! একটা বাস্তব সত্যি, পবিত্র সম্পর্ক বাদে, কথিত পর পুরুষের সম্পর্কের বেলায়, ওটা একটা মিথ্যা ভুয়া সম্পর্ক। তাছাড়াও আরেকটি সত্যি কথা, ভালোবাসা বলে কিছু নাই তবে প্রয়োজন বলে কিছু। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলতে গেলে উদাহরণ দিতে গেলে ডিসকাশন করতে গেলে বহু কথার প্রয়োজন। গ্রন্থ হয়ে যাবে লিখলে। কাজেই এ কথা আজকে থাক অন্যদিন হবে। তবে একথাও সত্যি ভালোর ক্ষেত্রে একজন পুরুষ অনেক দরকারি! নো সাবজেক্ট চরিত্রহীন, চরিত্রহীন বাদে বলছি। পুরুষ ভালো হলে সে অনেক ভালো। এবং দরকারি। কিন্তু ভয়ংকর পুরুষ তার ভুল করেও কোন দরকার নাই! পুরুষের অ্যাক্সিডেন্ট হয়না তাই পুরুষের সাবধানতার প্রয়োজন নাই। পুরুষের শারীরিক অ্যাক্সিডেন্টের সম্ভাবনা নাই। পারিপার্শনিক এক্সিডেন্ট এর সম্ভাবনা নাই। প্রাকৃতিক এক্সিডেন্ট এর সম্ভাবনা নাই। সামাজিক এক্সিডেন্টের সম্ভাবনা নাই। ইত্যাদি প্রভৃতি এই সবগুলোতে নারীর এক্সিডেন্ট হয়। তাই নারীর সাবধানতার প্রয়োজন আছে। পুরুষের যেহেতু এক্সিডেন্ট নাই এই কারণেই পুরুষের যত বাড়াবাড়ি। যত খিজালত। ধর্ষণ প্রভাবে উত্তীর্ণ। পুরুষ ধর্ষক হয় নারী ধর্ষক নাই। পুরুষ বলাৎকারি আছে নারী বলাতকারী নাই ইত্যাদি। একটা জিনিস লক্ষ্য করার বিষয়। যেটা সব চেয়ে বেশি সমস্যার। প্রেমিক পুরুষ! প্রেমিক পুরুষ সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী! প্রেমিক পুরুষের দুর্দান্ত স্বভাব। অশ্লীল মনোভাব, অশান্ত চিন্তা চেতনা। ভয়ংকর উদ্বিগ্নতা। নারীকে প্রতিপদে বিপদে ফেলতে পারদর্শী এবং অতিষ্ঠ করে ফেলে। তাই সব পুরুষ বরদাস্ত করার মত। মোটামুটি তারা ভালো। এবং তারা নারীদের উপকারি প্রাণি। একমাত্র প্রেমিক পুরুষ বাদে, পুরুষ ভালো এটা বলতে চাই। পুরুষ নিরাপদ, সব পুরুষ অনিরাপদ নয়। কিন্তু সব প্রেমিক পুরুষ প্রেমিকা নারীর জন্য অনিরাপদ। কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক এটাই বাস্তব। এখানে প্রেমিক পুরুষ টাকেই বলাৎকার ধর্ষক অর্থাৎ চরিত্রহীন এর ফরমেটে ফালাতে হবে। তাহলে তো বুঝাই যায় এইগুলো বাদে পুরুষ ভালো। পুরুষ সংসারে অনেক দরকারি প্রাণী। পুরুষ সংসারের অহংকারের গরবের জিনিস। ভালোলাগা ভালোবাসার জিনিস। কিন্তু যখন পুরুষ প্রেমিক! তখন সে ভয়ংকর প্রাণী! প্রেমিক পুরুষ যে কত বড় খারাপ লম্পট বাটপার মূর্খ অধম পশু জুলুম বাজি অত্যাচারী, যা বলার ভাষা নাই বললাম তো। এই প্রেমিক পুরুষ নিয়েই সমাজের যত সমস্যা। যত কুসংস্কার অন্যায় আর বৈষম্য। সাধারণ পুরুষকে নিয়ে সমস্যাই নাই। কোন সমস্যা নাই। পুরুষ যখন নারী ভুকি! নারী ভোগী! এখানেই যত উদ্ভট বিভ্রান্ত! যত বাড়াবাড়ি যত অশান্তি সমস্যা! এরাই তো প্রেমিক পুরুষ। প্রেমিক পুরুষ ছাড়া সমাজে কোন সমস্যাই নাই। এই যে বহু বিয়ে, বিয়ের পরে বিয়ে, নিকের পরে নিকে, এটাও কিন্তু ওই প্রেমিক পুরুষেরই কাজ! সাধারণ পুরুষের কাজ না। সাধারণ পুরুষ অনেক ভালো। অনেক ভদ্র মার্জিত সুমার্জিত। পুত্র পুরুষ বাবা পুরুষ তো সবারই গলার মালা! এমন শখের মিষ্টি জিনিস যা কোথাও নাই! কিন্তু প্রেমিক পুরুষ যে এত খারাপ মুখের বিষ গলার কাঁটা! বুকের জগতদল পাথর! কারণটা বলবো সবুর করেন! কেন তারা মুখের বিষ গলার কাঁটা! বুকের উপরে জগদ্দল পাথর!!
(অসমাপ্ত)